ইউসুফ (আ.)
يُوسُفস্বপ্নের ব্যাখ্যায় পারদর্শী ও মিসরের মন্ত্রী
জন্ম ও মৃত্যু
জন্ম
কনআনে জন্ম, যুবক বয়সে মিসরে যান
মৃত্যু
প্রচলিত মতে ১১০ বছর বয়সে মিসরে ইন্তেকাল
জীবনী
শৈশবেই ইউসুফ (আ.) স্বপ্নে দেখেন যে এগারো তারা ও সূর্য-চাঁদ তাঁকে সিজদা করছে। ভাইয়েরা তাঁকে কূপে ফেলে দেয়, পরে তিনি দাস হিসেবে মিসরে যান এবং অন্যায় অভিযোগে কারাগারে বন্দি হন। স্বপ্নের ব্যাখ্যা ও বিশুদ্ধ চরিত্রের কারণে অবশেষে তিনি মিসরের কোষাগারের দায়িত্ব পান।
বিস্তারিত কাহিনি
শৈশবে ইউসুফ (আ.) স্বপ্নে দেখেন এগারো তারা, সূর্য ও চাঁদ তাঁকে সিজদা করছে। পিতা বুঝে যান এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে বড় সংকেত এবং তাঁকে স্বপ্নের কথা গোপন রাখতে বলেন। ভাইয়েরা ঈর্ষায় তাঁকে কূপে ফেলে দেয়, পথিকরা তাঁকে দাস হিসেবে মিসরে বিক্রি করে দেয়। মিসরের অমাত্যর ঘরে তিনি বড় হন; যুবক বয়সে অন্যায় প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে তিনি মিথ্যা অভিযোগে কারাগারে যান। সেখানেই তাঁর স্বপ্ন ব্যাখ্যার প্রতিভা প্রকাশ পায়। রাজার স্বপ্নের ব্যাখ্যা করে তিনি সাত বছরের দুর্ভিক্ষের প্রস্তুতি নেওয়ার পরিকল্পনা দেন এবং কোষাগারের দায়িত্ব পান। সেই ক্ষমতায় বসেও তিনি ভাইদের প্রতি প্রতিশোধ নেন না, বরং তাদেরকে ক্ষমা করে মা-বাবাকে মিসরে এনে দেন। এভাবেই প্রায় চল্লিশ বছর পর পিতার স্বপ্ন সত্য হয়।
মুজিজা ও বিশেষত্ব
- স্বপ্নের নির্ভুল ব্যাখ্যা, যা রাজ্যে দুর্ভিক্ষ ঠেকিয়ে দেয়।
- কুমারী চরিত্র ও সততা রক্ষা পাওয়ার বিশেষ সম্মান।
গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা
- ভাইদের হাতে কূপে নিক্ষিপ্ত হওয়া।
- মিথ্যা অভিযোগে কারাবাস ও চরিত্রের পরীক্ষা।
- স্বপ্নের ব্যাখ্যা করে মিসরের দায়িত্ব পাওয়া।
শিক্ষণীয়
- ঈর্ষা কখনো ঈমানদারের কাজ হতে পারে না।
- বিপদে সততা ধরে রাখলে শেষ বিজয় আসে।
- ক্ষমা প্রতিশোধের চেয়ে শক্তিশালী।
মূল শিক্ষা
সততা ও ধৈর্য থাকলে দুঃসময়ও সম্মানে রূপ নেয়।
কুরআনে: সূরা ইউসুফ