সালিহ (আ.)
صَالِحসামুদ জাতির নবী ও উষ্ট্রীর মুজিজা
জন্ম ও মৃত্যু
জন্ম
আদ জাতির পরে, হিজর অঞ্চলে
মৃত্যু
সুনির্দিষ্ট তারিখ পাওয়া যায় না; সামুদ জাতির ধ্বংসের পর ইন্তেকাল
জীবনী
সামুদ জাতি পাথর কেটে ঘর বানাত এবং অসাধারণ শক্তির অধিকারী ছিল। সালিহ (আ.)-এর আহ্বানে তারা মুজিজা হিসেবে আল্লাহর উষ্ট্রী দেখতে পায়, কিন্তু নির্দেশ অমান্য করে তা হত্যা করে। ফলে ভয়াবহ শব্দ ও ভূমিকম্পে জাতিটি ধ্বংস হয়।
বিস্তারিত কাহিনি
সামুদ জাতি পাহাড়ের গা কেটে কারুকার্যময় ঘর বানাত এবং উর্বর মাঠ ও ঝরনার মালিক ছিল। তারা দাবি করে, সালিহ (আ.) যদি সত্যিই নবী হন তবে পাথর থেকে একটি উষ্ট্রী বের করে দেখান। আল্লাহ পাথর বিদীর্ণ করে একটি উষ্ট্রী বের করেন, যা নির্দিষ্ট কূপের পানি থেকে পান করত। এটি ছিল পরীক্ষা — কেউ তার ক্ষতি করবে না। কিছুদিন পর দুষ্টু লোকেরা উষ্ট্রীকে হত্যা করে। সালিহ (আ.) তিন দিনের সময়সীমা জানিয়ে সতর্ক করেন, কিন্তু তারা মাটি খুঁড়ে তাঁকে হত্যার ষড়যন্ত্র করে। চূড়ান্ত মুহূর্তে ভয়ংকর শব্দ ও কাঁপুনি এসে জাতিকে ঘুমন্ত অবস্থায় গ্রাস করে।
মুজিজা ও বিশেষত্ব
- পাথর থেকে জীবন্ত উষ্ট্রীর প্রকাশ।
- মানুষের হাত থেকে উষ্ট্রীকে রক্ষার নির্দিষ্ট নিয়ম ও কূপের পানি নির্ধারণ।
গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা
- পাহাড় কেটে স্থাপত্য নির্মাণে দক্ষতা।
- উষ্ট্রী মুজিজা ও আল্লাহর নির্দেশ।
- উষ্ট্রী হত্যার পর জাতির ধ্বংস।
শিক্ষণীয়
- মুজিজা দেখেও অবাধ্যতা আল্লাহর আজাবকে ঠেকাতে পারে না।
- অল্প কিছু দুষ্টু মানুষের চক্রান্ত গোটা সমাজকে বিপদে ফেলে।
- প্রতিশ্রুত সময় আসার আগেই সতর্কবাণী মানা উচিত।
মূল শিক্ষা
মুজিজা দেখেও অবাধ্যতা পরিণতি বদলায় না; নির্দেশ মান্য করাই নিরাপত্তা।
কুরআনে: সূরা হুদ ৬১–৬৮