নূহ (আ.)
نُوحজাহাজ নির্মাতা নবী
জন্ম ও মৃত্যু
জন্ম
আদম (আ.)-এর বহু প্রজন্ম পরে, মেসোপটেমিয়ায়
মৃত্যু
প্রচলিত বর্ণনায় ৯৫০ বছর দাওয়াতের পর ইন্তেকাল
জীবনী
নূহ (আ.) প্রায় ৯৫০ বছর তাঁর সম্প্রদায়কে এক আল্লাহর ইবাদতে ডাকেন, কিন্তু অল্প কিছু মানুষই ঈমান আনে। আল্লাহর নির্দেশে তিনি বিশাল জাহাজ তৈরি করেন এবং মুমিনদের ও পশুদের নিয়ে তাতে ওঠেন। অবিশ্বাসীরা প্রবল বন্যায় ধ্বংস হয়।
বিস্তারিত কাহিনি
নূহ (আ.) তাঁর সম্প্রদায়কে এক আল্লাহর ইবাদতের দিকে ডেকে প্রায় নয়শ পঞ্চাশ বছর কাটিয়ে দেন। তিনি দিন-রাত, গোপনে ও প্রকাশ্যে দাওয়াত দেন, কিন্তু যতই ডাকেন, মানুষ ততই মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং তাঁকে নির্বোধ বলে ঠাট্টা করে। তাঁর নিজের ছেলে ও স্ত্রীও ঈমান আনেননি। অবশেষে আল্লাহর নির্দেশে তিনি বিশাল এক জাহাজ নির্মাণ করেন। মানুষ দেখে হাসাহাসি করে; কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ে আকাশ থেকে পানি নামে ও ভূমি থেকে পানি উঠে আসে। নূহ (আ.) মুমিনদের ও পশুদের জোড়া নিয়ে জাহাজে ওঠেন, আর তাঁর অবাধ্য ছেলে পাহাড়ে আশ্রয় নিতে গিয়ে ডুবে যায়। প্রলয় শেষে জাহাজ জুদি পাহাড়ে ভিড়ে এবং পৃথিবীতে নতুন করে জীবন শুরু হয়।
মুজিজা ও বিশেষত্ব
- আল্লাহর নির্দেশে নির্মিত জাহাজ ও মহাপ্লাবন থেকে মুমিনদের নাজাত।
- এক হাজার বছরের কাছাকাছি সময় ধরে দাওয়াতের ধৈর্য।
গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা
- দীর্ঘ দিন দাওয়াত দেওয়ার পরও সম্প্রদায়ের বিরোধিতা।
- আল্লাহর নির্দেশে জাহাজ নির্মাণ।
- মহাপ্লাবন ও মুমিনদের নাজাত।
শিক্ষণীয়
- দাওয়াতের ফল আল্লাহর হাতে; কাজ চালিয়ে যাওয়াই দায়িত্ব।
- আত্মীয়তার সম্পর্ক ঈমানের চেয়ে বড় নয়।
- সুন্নত বা পদ্ধতি মানতে গিয়ে ঠাট্টা সহ্য করতে হয়।
মূল শিক্ষা
দীর্ঘ সময় ধৈর্য ধরে ভালো কাজ চালিয়ে যেতে হয়; ফলাফল আল্লাহর হাতে।
কুরআনে: সূরা হুদ ২৫–৪৮