মূসা (আ.)
مُوسَىকালিমুল্লাহ — আল্লাহর সঙ্গে কথা বলা নবী
জন্ম ও মৃত্যু
জন্ম
মিসরে জন্ম, শিশুকালে নীল নদে ভাসিয়ে দেওয়া হয়
মৃত্যু
প্রচলিত মতে প্রায় ১২০ বছর বয়সে সিনাই অঞ্চলে ইন্তেকাল
জীবনী
জন্মের পর প্রাণনাশের ভয়ে মা তাঁকে নীল নদে ভাসিয়ে দেন এবং ফেরাউনের ঘরেই তিনি লালিত হন। নবুওয়াত পেয়ে তিনি ফেরাউনকে এক আল্লাহর ইবাদতে ডাকেন ও মুজিজা হিসেবে লাঠি সাপ হয়ে যায়। ফেরাউনের হাত থেকে বনী ইসরাইল মুক্তি পেয়ে সাগর পার হয়।
বিস্তারিত কাহিনি
ফেরাউন স্বপ্নের ভয়ে নবজাতক ছেলেদের হত্যার নির্দেশ দেয়। মূসা (আ.)-এর মা তাঁকে একটি সিন্দুকে ভরে নীল নদে ভাসিয়ে দেন; সিন্দুকটি ফেরাউনের প্রাসাদের ঘাটে ভেসে ওঠে এবং শত্রুর ঘরেই তিনি লালিত হন। যুবক বয়সে একটি ভুলে মিসর ছেড়ে মাদইয়ানে গিয়ে পালক পুত্র হিসেবে দশ বছর কাটান। ফিরে আসার পথে তূর পর্বতে আগুন দেখে গিয়ে আল্লাহর সঙ্গে কথা বলেন এবং নবুওয়াত পান। ভাই হারুন (আ.)-কে সঙ্গে নিয়ে ফেরাউনের দরবারে যান; লাঠি সাপ হয়ে যায়, হাত আলোকিত হয়, জাদুকররা ঈমান আনে। নয়টি আজাবের পরও ফেরাউন মাথা নত করে না। রাতের বেলা বনী ইসরাইলকে নিয়ে বেরিয়ে পড়লে সাগর বিদীর্ণ হয়; পিছু ধাওয়া করা ফেরাউন তার বাহিনীসহ ডুবে যায়। পরে তূর পর্বতে তিনি তাওরাত পান এবং আল্লাহর সঙ্গে কথা বলার সম্মানে 'কালিমুল্লাহ' হন।
মুজিজা ও বিশেষত্ব
- লাঠি সাপ হয়ে যাওয়া ও হাত চমৎকার আলোতে উদ্ভাসিত হওয়া।
- সাগর বিদীর্ণ করে বনী ইসরাইলকে পার করা।
- তূর পর্বতে আল্লাহর সঙ্গে সরাসরি কথা বলা।
গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা
- শিশু অবস্থায় নীল নদে ভাসিয়ে দেওয়া ও উদ্ধার।
- তূর পর্বতে নবুওয়াত ও দশটি নির্দেশ।
- সাগর বিদীর্ণ করে ফেরাউনের কবল থেকে মুক্তি।
শিক্ষণীয়
- আল্লাহর সাহায্য আসে অসম্ভব পরিস্থিতিতেও।
- অত্যাচারের মুখে সত্য বলা সাহসের পরিচয়।
- নেতৃত্ব কখনো একা চালানো যায় না; সহযোগী দরকার।
মূল শিক্ষা
ত্যাগ ও আল্লাহর উপর ভরসা দুর্বলের মুক্তির পথ হয়।
কুরআনে: সূরা ত্বা-হা