মুহাম্মদ (সা.)
مُحَمَّدখাতামুন নাবিয়্যীন — শেষ নবী
জন্ম ও মৃত্যু
জন্ম
৫৭০ খ্রিস্টাব্দে (আমুল ফীল) মক্কায় জন্ম
মৃত্যু
৬৩২ খ্রিস্টাব্দে ৬৩ বছর বয়সে মদিনায় ইন্তেকাল
জীবনী
মক্কার কুরাইশ বংশে জন্ম নেওয়া মুহাম্মদ (সা.) চল্লিশ বছর বয়সে নবুওয়াত পান এবং ২৩ বছর ধরে কুরআন তাঁর উপর নাজিল হয়। তাওহিদ, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের শিক্ষা তিনি পৌঁছে দেন, অত্যাচার সহ্য করেন এবং অবশেষে মক্কা বিজয়ের দিন সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন।
বিস্তারিত কাহিনি
মুহাম্মদ (সা.) মক্কার কুরাইশ বংশে এতিম হয়ে জন্ম নেন; দাদা ও চাচার তত্ত্বাবধানে বড় হন। মক্কাবাসী তাঁকে 'আল-আমিন' বলে ডাকত। চল্লিশ বছর বয়সে হেরা গুহায় জিব্রিল (আ.)-এর মাধ্যমে প্রথম ওহি পান — 'পড়ো তোমার রবের নামে।' প্রথম তিন বছর গোপনে, পরে প্রকাশ্যে দাওয়াত দেন। অত্যাচার চরমে ওঠে — বয়কট, হত্যাচেষ্টা, তায়েফে অপমান। তবু তিনি নিজে কোনো অভিশাপ দেননি। মদিনায় হিজরতের পর ভ্রাতৃত্ব, সনদ ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে একটি সমাজ গড়ে তোলেন। ২৩ বছর ওহি নাজিলের পর বিদায় হজে তিনি ঘোষণা করেন — কোনো আরব অনারবের উপর শ্রেষ্ঠ নয়; প্রাণ, সম্পদ ও সম্মান সবাইকের রক্ষিত। সেই বাণীই পরবর্তী যুগে মুসলিম উম্মাহর ভিত্তি হয়।
মুজিজা ও বিশেষত্ব
- কুরআন — সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ অলৌকিক কিতাব।
- ইসরা ও মিরাজে সাত আসমানে ভ্রমণ ও পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ প্রাপ্তি।
- ইশারায় চাঁদ বিদীর্ণ হওয়া ও অল্প খাবারে বহু মানুষের তৃপ্ত হওয়া।
গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা
- হেরা গুহায় প্রথম ওহি ও নবুওয়াত।
- মক্কায় সতেরো বছরের কঠিন দাওয়াত ও হিজরত।
- মদিনায় ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ও বিদায় হজ।
শিক্ষণীয়
- চরিত্রই দাওয়াতের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।
- ক্ষমতা পেলে ক্ষমা করতে হয়, প্রতিশোধ করতে হয় না।
- সব মানুষ সমান; আভিজাত্য নয়, তাকওয়াই মাপকাঠি।
মূল শিক্ষা
সত্যবাদিতা, ধৈর্য ও ক্ষমা দিয়েই সর্বোত্তম সমাজ গড়া যায়।
কুরআনে: সূরা আহযাব ৪০