ইসমাইল (আ.)
إِسْمَاعِيلকাবার নির্মাতা ও জবাইয়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ
জন্ম ও মৃত্যু
জন্ম
কনআনে জন্ম, শৈশবে মক্কায় আসেন
মৃত্যু
প্রচলিত মতে প্রায় ১৩৭ বছর বয়সে মক্কায় ইন্তেকাল
জীবনী
শৈশবে মা হাজেরা (আ.)-সহ মক্কার নির্জন উপত্যকায় থাকাকালে জমজমের পানি প্রকাশ পায়। বড় হয়ে ইবরাহিম (আ.)-এর সঙ্গে কাবা পুনর্নির্মাণ করেন। পিতার আদেশে নিজেকে কুরবানি করতে সম্মত হলে আল্লাহ তাঁর বদলে একটি দুম্বা পাঠান।
বিস্তারিত কাহিনি
শিশু ইসমাইল (আ.)-কে মা হাজেরা (আ.)-এর সাথে মক্কার নির্জন উপত্যকায় রেখে আসা হয়। পানির অভাবে মা সাফা-মারওয়ায় দৌড়াদৌড়ি করেন, তখন জমজমের ঝরনা ফুটে ওঠে এবং পথিকদের মাধ্যমে ধীরে ধীরে মক্কায় বসতি গড়ে ওঠে। বড় হলে ইবরাহিম (আ.) স্বপ্নাদেশ পেয়ে তাঁকে কুরবানির জন্য প্রস্তুত করেন। পুত্র হুকুম মানেন, পিতা ছুরি চালাতে যাচ্ছেন — এমন সময় আল্লাহ একটি দুম্বা দিয়ে তাঁকে মুক্ত করেন। এই কারণেই কুরবানি রহিত হয় না; হজের সবচেয়ে বড় কবুল হওয়া মাসুম দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে ইসমাইল (আ.)। পিতার সঙ্গে মিলে তিনি কাবা ঘরের দেয়াল পুনরায় নির্মাণ করেন এবং আল্লাহর কাছে মুসলিম হিসেবে জীবন যাপনের দোয়া করেন।
মুজিজা ও বিশেষত্ব
- জমজমের পানির উত্থান ও মরুভূমিতে মক্কার সূচনা।
- কুরবানির পরীক্ষায় আল্লাহর বদলে দুম্বা প্রেরণ।
গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা
- জমজমের পানির প্রকাশ ও মক্কা বসতির সূচনা।
- পিতার সঙ্গে কাবা পুনর্নির্মাণ।
- কুরবানির পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে মুক্ত হওয়া।
শিক্ষণীয়
- আল্লাহর হুকুমে আত্মসমর্পণ সর্বোচ্চ ইবাদত।
- ধৈর্যের পর আল্লাহ নিজেই পথ খুলে দেন।
- সন্তানকে সৎভাবে বড় করাই হাজার বছরের বিনিয়োগ।
মূল শিক্ষা
আল্লাহর হুকুমে নিজেকে সমর্পণ করলে তিনি উত্তম প্রতিদান দেন।
কুরআনে: সূরা সাফফাত ১০০–১১১