ঈসা (আ.)
عِيسَىমসীহ — কুমারী মরিয়মের পুত্র
জন্ম ও মৃত্যু
জন্ম
জেরুজালেমের বাইত লাহমে পিতা ছাড়াই জন্ম
মৃত্যু
শত্রুরা তাঁকে হত্যা করতে পারেনি; আল্লাহ তাঁকে নিজের কাছে উঠিয়ে নেন
জীবনী
ঈসা (আ.) পিতা ছাড়াই আল্লাহর কুদরতে জন্মগ্রহণ করেন এবং দোলনায় কথা বলেন। আল্লাহ তাঁকে ইঞ্জিল দান করেন এবং তিনি আল্লাহর অনুমতিতে অন্ধ ও কুষ্ঠরোগীকে সুস্থ করেন, মৃতকে জীবিত করেন। তাঁকে আল্লাহ নিজের কাছে উঠিয়ে নেন এবং কেয়ামতের পূর্বে তাঁর প্রত্যাবর্তনের বিশ্বাস রয়েছে।
বিস্তারিত কাহিনি
মরিয়ম (আ.) নিরিবিলি ইবাদতে ছিলেন, তখন ফেরেশতা জিব্রিল (আ.) এসে জানান আল্লাহ তাঁকে একটি সন্তানের সুসংবাদ দিচ্ছেন। তিনি আশ্চর্য হয়ে চিঠি চাইলেন, ইতিহাসে এমন কিছু হয়নি। আল্লাহ বললেন, এটা আমার জন্য সহজ। ঈসা (আ.) জন্মের পর কাঠের দোলনায় কথা বলেন এবং নিজের পরিচয় দেন আল্লাহর বান্দা ও নবী বলা হয়েছে এমন কথা। পরে আল্লাহ তাঁকে ইঞ্জিল দান করেন। আল্লাহর অনুমতিতে তিনি মাটির পাখি ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দেন, অন্ধ ও কুষ্ঠরোগীকে সুস্থ করেন এবং মৃতকে জীবিত করেন। তাঁর বিরোধীরা তাঁকে হত্যার চেষ্টা করে, কিন্তু আল্লাহ তাঁকে নিজের কাছে উঠিয়ে নেন। ইসলামের বিশ্বাস অনুযায়ী কেয়ামতের আগে তিনি ফিরে আসবেন এবং ন্যায়বিচার কায়েম করবেন।
মুজিজা ও বিশেষত্ব
- পিতা ছাড়াই জন্ম এবং দোলনায় কথা বলা।
- আল্লাহর অনুমতিতে অন্ধ ও কুষ্ঠরোগীকে সুস্থ করা, মৃতকে জীবিত করা।
- আল্লাহর কাছে উত্তোলিত হওয়া এবং কেয়ামতের আগে প্রত্যাবর্তনের প্রতিশ্রুতি।
গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা
- কুমারী মরিয়ম (আ.)-এর ঘরে অলৌকিক জন্ম।
- ইঞ্জিল প্রাপ্তি ও দাওয়াত।
- আল্লাহর অনুমতিতে মুজিজা ও আকাশে উত্তোলন।
শিক্ষণীয়
- ঈসা (আ.) আল্লাহর বান্দা — কেবল আল্লাহর ইবাদত করতে হয়।
- মুজিজা আল্লাহর অনুমতিতেই হয়, নিজ ক্ষমতায় নয়।
- দুঃসময়ে ইবাদত ও সংযমই শক্তি দেয়।
মূল শিক্ষা
ঈসা (আ.)ও আল্লাহর বান্দা ও রাসূল — কেবল আল্লাহরই ইবাদত করতে হয়।
কুরআনে: সূরা মারইয়াম ১৬–৩৪