সব নবীর তালিকা

ইবরাহিম (আ.)

إِبْرَاهِيم

খলিলুল্লাহ — আল্লাহর বন্ধু

বাবিল ও কনআনবাবিল, শাম ও মক্কা

জন্ম ও মৃত্যু

জন্ম

প্রচলিত মতে বাবিলে (বর্তমান ইরাক) জন্ম

মৃত্যু

প্রচলিত মতে ১৭৫ বছর বয়সে হেবরনে ইন্তেকাল

জীবনী

ইবরাহিম (আ.) যুক্তি ও চিন্তার মাধ্যমে এক আল্লাহর সত্যতা বুঝতে পারেন এবং মূর্তিপূজার বিরুদ্ধে দাঁড়ান। বাবিলের রাজা তাঁকে আগুনে নিক্ষেপ করলে আল্লাহ আগুনকে শীতল ও নিরাপদ করে দেন। তিনি কাবা ঘরের ভিত্তি স্থাপন করেন এবং তাঁর বংশে মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমন হয়।

বিস্তারিত কাহিনি

ইবরাহিম (আ.) এক মূর্তিপূজার সমাজে জন্ম নেন, যেখানে বাবিলের রাজা নিজেকে আল্লাহর প্রতিদ্বন্দ্বী বলে দাবি করত। তিনি নভোমণ্ডলে ভাবেন — তারকা, চাঁদ ও সূর্য ডোবে, তাই তারা আল্লাহ হতে পারে না। এই যুক্তির পথ ধরেই তিনি এক আল্লাহর সত্যে পৌঁছান। তিনি নিজের হাতে মূর্তি ভাঙেন, বড়টি রেখে যান এবং সম্প্রদায়কে বোকা বানানোর প্রশ্নে ঘায়েল করেন। রাগে আগুন জ্বালিয়ে তাঁকে নিক্ষেপ করা হয়, কিন্তু আল্লাহ হুকুম করেন আগুন শীতল ও নিরাপদ হোক। তিনি স্ত্রী হাজেরা (আ.) ও শিশু ইসমাইল (আ.)-কে মরুভূমিতে রেখে আসেন, তাঁরই দোয়ায় জমজম ও মক্কার বসতি গড়ে ওঠে। পুত্র ও নিজের জীবন আল্লাহর পথে উৎসর্গ করতে উদ্যত হলে আল্লাহ তাকে মুক্ত করেন। মক্কার কাবা ঘরের ভিত্তি তিনিই পুনরায় স্থাপন করেন।

মুজিজা ও বিশেষত্ব

  • আগুন শীতল ও নিরাপদ হয়ে যাওয়া।
  • মৃত পাখির আলাদা অংশ জোড়া দিয়ে জীবিত করার মুজিজা।
  • মরু উপত্যকায় জমজমের পানির উত্থান।

গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা

  • তারকা, চাঁদ ও সূর্য পর্যবেক্ষণ করে তাওহিদে পৌঁছানো।
  • মূর্তি ভেঙে আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়া এবং আল্লাহর হেফাজত।
  • ইসমাইল (আ.)-সহ কাবা নির্মাণ।

শিক্ষণীয়

  • চিন্তা ও যুক্তি দিয়ে তাওহিদে পৌঁছানো যায়।
  • সত্যের জন্য একা দাঁড়ানোর সাহস দরকার।
  • আল্লাহর জন্য ত্যাগ করলে আল্লাহ কখনো নষ্ট করেন না।

মূল শিক্ষা

সত্যের পক্ষে দাঁড়াতে কষ্ট হলেও আল্লাহর উপর ভরসা কখনো বৃথা যায় না।

কুরআনে: সূরা বাকারা ১২৪–১৩২