আইয়ুব (আ.)
أَيُّوبধৈর্যের প্রতীক
জন্ম ও মৃত্যু
জন্ম
শাম অঞ্চলে ইসহাক (আ.)-এর বংশে জন্ম
মৃত্যু
সুনির্দিষ্ট তারিখ নেই; দীর্ঘ রোগের পর সুস্থ হয়ে ইন্তেকাল
জীবনী
আইয়ুব (আ.) সম্পদ ও সন্তানসন্ততি হারিয়ে দীর্ঘ রোগে আক্রান্ত হন, তবু আল্লাহর প্রতি শোকর ও ধৈর্য হারাননি। তিনি তাঁর কষ্টের কথা কেবল আল্লাহর কাছে বলেন, এবং আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা ও সুস্থতা দান করেন।
বিস্তারিত কাহিনি
আইয়ুব (আ.) প্রচুর সম্পদ, গবাদি পশু ও সন্তানের মালিক ছিলেন। আল্লাহর পরীক্ষায় তিনি একে একে সবকিছু হারান — পশু, ক্ষেত, এমনকি সন্তান। এরপর দীর্ঘকাল রোগে ভুগতে থাকেন, ক্ষত এমন বাড়াবাড়ি হয় যে মানুষ তাঁর থেকে দূরে সরে যায়; তবু তাঁর মুখ থেকে কারো প্রতি অভিযোগ আসেনি। স্ত্রী বিশ্বাসে অবিচল ছিলেন, তিনিই সেবা করেন। তিনি কষ্টের কথা কেবল আল্লাহর কাছে জানান, অথচ আল্লাহর প্রতি শোকরও ছাড়েন না। অনেক বছর পর আল্লাহ তাঁকে ডাকেন, পা দিয়ে মাটিতে আঘাত করতে বলেন — সেখান থেকে ঠান্ডা পানির ঝরনা ফুটে ওঠে, তিনি গোসল করলেন, সুস্থ হলেন এবং আল্লাহর অনুগ্রহে ধন-সম্পদ ও পরিবারও ফিরে পান।
মুজিজা ও বিশেষত্ব
- দীর্ঘ রোগ থেকে আল্লাহর নির্দেশে সুস্থতা লাভ।
- হারানো পরিবার ও সম্পদের পুনরুদ্ধার।
গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা
- সম্পদ ও সন্তান হারানোর পরীক্ষা।
- দীর্ঘ রোগেও আল্লাহর স্মরণে অবিচল থাকা।
- আল্লাহর পক্ষ থেকে সুস্থতা ও বরকত ফিরে পাওয়া।
শিক্ষণীয়
- পরীক্ষায়ও আল্লাহর শোকর ও সবর বজায় রাখতে হয়।
- নিজের কষ্ট ছড়িয়ে না দিয়ে আল্লাহর কাছে বলা উত্তম।
- সফলতা ফিরেও আসে; ঈমান রাখাই আসল কাজ।
মূল শিক্ষা
কষ্টের মধ্যেও আল্লাহর শোকর ও ধৈর্য বজায় রাখাই ঈমানের প্রমাণ।
কুরআনে: সূরা আম্বিয়া ৮৩–৮৪