স্বাস্থ্যবিধি

পরিচ্ছন্নতা, পুষ্টি, ঘুম, রোগ প্রতিরোধ, শিশু-মা ও বয়স্কদের যত্ন এবং প্রাথমিক চিকিৎসার সহজ নিয়ম।

22 টি বিষয়

ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা

  • প্রতিদিন গোসল করুন এবং পরিষ্কার শুকনো কাপড় পরুন।
  • দিনে দুবার দাঁত ব্রাশ করুন ও নিয়মিত নখ কাটুন।
  • নিজের তোয়ালে, চিরুনি ও রুমাল আলাদা রাখুন।
  • গরমে দিনে অন্তত একবার গোসল বা শরীর মুছে নিন।
  • মাসিকের সময় পরিষ্কার পানি ও স্যানিটারি প্যাড ব্যবহার করুন।

হাত ধোয়ার নিয়ম

  • খাওয়ার আগে ও টয়লেটের পরে সাবান দিয়ে ২০ সেকেন্ড হাত ধুয়ে নিন।
  • রান্নার আগে ও কাঁচা মাছ-মাংস ধরার পরে হাত ধুয়ে নিন।
  • হাঁচি-কাশির সময় কনুই বা রুমাল ব্যবহার করুন।
  • হাত ধোয়ার পর ভালোভাবে শুকিয়ে নিন।
  • হাতের নখ ছোট রাখুন — নখের ভেতরে জীবাণু জমে।

নিরাপদ পানি ও খাবার

  • ফুটানো বা ফিল্টার করা পানি পান করুন।
  • খাবার ঢেকে রাখুন এবং বাসি খাবার গরম করে খান।
  • কাঁচা ও রান্না করা খাবার আলাদা পাত্রে রাখুন।
  • মেয়াদোত্তীর্ণ বা দুর্গন্ধযুক্ত খাবার ফেলে দিন।
  • রাস্তার খোলা খাবার, বিশেষ করে কাটা ফল, এড়িয়ে চলুন।

সুষম খাদ্য

  • প্রতিদিনের পাতে ভাত/রুটি, ডাল, শাক-সবজি ও প্রোটিন রাখুন।
  • দিনে ২–৩টি মৌসুমি ফল খান।
  • লবণ দিনে ৫ গ্রামের কম এবং চিনি কম খান।
  • ভাজাপোড়া ও প্যাকেটজাত খাবার সপ্তাহে এক-দুবারে সীমিত রাখুন।
  • প্রতিদিন ৮–১০ গ্লাস পানি পান করুন, গরমে আরও বেশি।

পানি ও স্যানিটেশন

  • টয়লেট ব্যবহারের পর অবশ্যই পানি ও সাবান ব্যবহার করুন।
  • পানির পাত্র ঢেকে রাখুন ও নিয়মিত পরিষ্কার করুন।
  • বন্যার সময় পানিতে ক্লোরিন ট্যাবলেট বা ফুটিয়ে পান করুন।
  • পায়খানা ও খাবারের জায়গা আলাদা রাখুন।

ঘুম

  • প্রতিদিন ৭–৮ ঘণ্টা ঘুমান, সম্ভব হলে একই সময়ে।
  • ঘুমানোর এক ঘণ্টা আগে মোবাইল ও স্ক্রিন বন্ধ করুন।
  • ঘুমানোর ঘর অন্ধকার ও শান্ত রাখুন।
  • বিকেলের পরে চা-কফি কম খান।
  • দুপুরে ২০–৩০ মিনিটের বেশি ঘুমাবেন না।

শরীরচর্চা

  • সপ্তাহে অন্তত ৫ দিন ৩০ মিনিট হাঁটুন।
  • প্রতিদিন কিছুক্ষণ স্ট্রেচিং করুন, বিশেষ করে ঘাড় ও কোমরের জন্য।
  • লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করুন।
  • ব্যথা বা শ্বাসকষ্ট হলে ব্যায়াম থামিয়ে বিশ্রাম নিন।
  • প্রতিদিন অন্তত ১০ মিনিট রোদে থাকুন — ভিটামিন ডি-র জন্য।

দাঁত ও মুখের যত্ন

  • ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্ট দিয়ে দিনে দুবার দুই মিনিট ব্রাশ করুন।
  • মিষ্টি ও কোমল পানীয় কম খান।
  • দাঁতে ব্যথা, রক্ত বা মাড়ি ফুললে দাঁতের ডাক্তার দেখান।
  • ধূমপান ও জর্দা-গুল মুখের ক্যান্সারের বড় কারণ।

চোখের যত্ন

  • স্ক্রিনে কাজ করার সময় প্রতি ২০ মিনিটে ২০ সেকেন্ড দূরে তাকান।
  • রাতে অন্ধকারে মোবাইল চালাবেন না।
  • চোখে ধুলা-ধোঁয়া লাগলে পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে নিন।
  • হঠাৎ দৃষ্টি কমলে বা চোখ লাল হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

রোগ প্রতিরোধ

  • সময়মতো টিকা নিন, বিশেষ করে শিশুদের জন্য।
  • জ্বর, কাশি বা ডায়রিয়া ৩ দিনের বেশি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
  • মশারি ব্যবহার করুন এবং ঘরে জমা পানি পরিষ্কার রাখুন।
  • ধূমপান ও তামাক সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলুন।
  • হাঁপানি বা অ্যালার্জি থাকলে ধুলা-ধোঁয়া থেকে দূরে থাকুন।
  • যক্ষ্মা ৩ সপ্তাহের বেশি কাশি ও ওজন কমার লক্ষণ — দ্রুত পরীক্ষা করান।

ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগ

  • ফুলের টব, ডাবের খোসা ও পরিত্যক্ত পাত্রে পানি জমতে দেবেন না।
  • সপ্তাহে এক দিন ঘরের সব পানি রাখার পাত্র খালি করে শুকিয়ে নিন।
  • দিনের বেলাও ফুলহাতা কাপড় পরুন ও মশা নিরোধক ক্রিম ব্যবহার করুন।
  • জ্বরের সাথে তীব্র ব্যথা বা প্লাটিলেট কমলে দ্রুত হাসপাতালে যান।

গরম ও তাপপ্রবাহ

  • দুপুর ১২টা–বিকেল ৪টা পর্যন্ত বাইরের কাজ এড়িয়ে চলুন।
  • ঘন ঘন পানি, লেবু-পানি বা স্যালাইন পান করুন।
  • হালকা রঙের ঢিলেঢালা কাপড় পরুন ও মাথা ঢেকে বের হন।
  • মাথা ঘোরা বা প্রস্রাব কমে গেলে দ্রুত ঠান্ডা জায়গায় গিয়ে স্যালাইন খান।

শীতকালীন যত্ন

  • সকালে ঘুম থেকে উঠে সাথে সাথে গরম পানি দিয়ে মুখ-মাথা ধোবেন না।
  • শিশু ও বয়স্কদের গরম কাপড় ও মোজা পরিয়ে রাখুন।
  • শীতে ত্বক শুকিয়ে গেলে ময়েশ্চারাইজার বা নারকেল তেল ব্যবহার করুন।

ওষুধ ব্যবহার

  • চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক খাবেন না।
  • ওষুধের মেয়াদ ও ডোজ প্রতিবার দেখে নিন।
  • অন্য কারও ওষুধ নিজে খাবেন না বা তাদের দেবেন না।
  • ওষুধ শুকনো ঠান্ডা জায়গায়, শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।

শিশুদের যত্ন

  • জন্মের প্রথম ৬ মাস শুধু মায়ের দুধ দিন, পানি নয়।
  • ৬ মাসের পর ঘরে তৈরি নরম খাবার শুরু করুন।
  • টিকা কার্ড অনুযায়ী সব টিকা সময়মতো দিন।
  • শিশুর ডায়রিয়ায় সালফার-মুক্ত স্যালাইন ও জিংক দিন।
  • শিশুকে কখনো গরম পানি বা ধারালো বস্তুর কাছে একা রাখবেন না।

নারীর স্বাস্থ্য

  • গর্ভাবস্থায় নিয়মিত চেকআপ ও আয়রন-ফলিক অ্যাসিড খান।
  • রক্তশূন্যতা ঠেকাতে আয়রনসমৃদ্ধ খাবার ও ভিটামিন সি খান।
  • মাসিকের সময় প্রতি ৪–৬ ঘণ্টায় প্যাড বদলান।
  • স্তনে গোটা বা অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
  • প্রসবের পর ৪২ দিনের মধ্যে অন্তত একবার চেকআপ করান।

বয়স্কদের যত্ন

  • প্রতিদিন রক্তচাপ ও প্রয়োজন অনুযায়ী সুগার মাপুন।
  • পড়ে যাওয়া এড়াতে ঘরে আলো ও হাতল রাখুন, মেঝে শুকনো রাখুন।
  • হাঁটাচলা ও হালকা ব্যায়াম চালিয়ে যান।
  • নিয়মিত ওষুধের তালিকা ও চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলুন।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ

  • মিষ্টি, সাদা ভাত ও ময়দার খাবার কমিয়ে দিন।
  • প্রতিদিন ৩০ মিনিট হাঁটুন।
  • খালি পায়ে হাঁটবেন না — পায়ের যত্ন নিন।
  • সুগার ও ওজন নিয়মিত লিখে রাখুন।

হার্ট ও রক্তচাপ

  • লবণ ও তেল কমিয়ে খান।
  • হঠাৎ বুকে চাপ, ব্যথা বা বাম হাতে ব্যথা হলে দ্রুত হাসপাতালে যান।
  • ধূমপান ছাড়ুন — হার্টের ঝুঁকি দ্রুত কমে।
  • প্রতিদিন রক্তচাপ মাপুন, ১৪০/৯০ এর বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

প্রাথমিক চিকিৎসা

  • কাটা-ছেঁড়ায় পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার কাপড় দিয়ে চাপ দিন।
  • পুড়ে গেলে ঠান্ডা পানিতে ১০–২০ মিনিট ধরে রাখুন, বরফ লাগাবেন না।
  • সাপে কাটলে আক্রান্ত অঙ্গ নাড়াবেন না, দ্রুত হাসপাতালে যান।
  • অজ্ঞান হলে শোয়ানো অবস্থায় পা সামান্য উঁচু করুন এবং শ্বাস দেখুন।
  • ডুবে যাওয়া ব্যক্তিকে পানির বাইরে এনে শ্বাস পরীক্ষা করে দ্রুত হাসপাতালে নিন।

মানসিক স্বাস্থ্য

  • পরিবার ও বন্ধুদের সাথে প্রতিদিন কিছুটা সময় কাটান।
  • টানা দুশ্চিন্তা বা মন খারাপ থাকলে কারও সাথে কথা বলুন।
  • প্রতিদিন ৫ মিনিট গভীর শ্বাসের ব্যায়াম করুন।
  • মোবাইল আসক্তি কমাতে রাতে একটি নির্দিষ্ট সময়ে ফোন বন্ধ রাখুন।
  • প্রয়োজনে কাউন্সেলিং বা চিকিৎসকের সহায়তা নিতে দ্বিধা করবেন না।

কর্মক্ষেত্র ও শরীরের ভঙ্গি

  • দীর্ঘ সময় বসে কাজ করলে প্রতি ঘণ্টায় ২–৩ মিনিট উঠে হাঁটুন।
  • চেয়ারে বসার সময় পিঠ সোজা ও পা মেঝেতে রাখুন।
  • ভারী জিনিস তুলতে হাঁটু ভাঁজ করুন, কোমর নয়।
  • কাজের ফাঁকে চোখ ও ঘাড়ের ব্যায়াম করুন।

এগুলো সাধারণ স্বাস্থ্যবিধি — রোগের লক্ষণ থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।